একজন মহররম আলী
দুপুরের তপ্ত রোদ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। টি এস সির আশে পাশে দু একটা রিক্সা দেখা গেলেও যাত্রী নেই। চায়ের দোকানগুলো বন্ধ। কয়েকটি কাক শুধু কা কা করে নীরবতা ভাঙছে। দশ বারো বছরের এক ছেলে বাস থেকে নামল। গন্তব্য অজানা। গায়ের রং কালো বললেই চলে, তবে চেহারাটা অনেক ময় ভরা। কোন দিকে যাবে? কিছুই জানা নেই। একটা চায়ের দোকানের পাশে হেলান দিয়ে বসে, আর উদাস চেয়ে থাকে । রাতে ভাত নিয়ে বিরাট ঝগড়া, মহররম কতটুকু আর ভাত খায়, তাই নিয়ে বকা শুনতে হয়। সে নাকি সব ভাত সাবাড় করে দিচ্ছে। মা বেঁচে থাকলে জোড় করে খাওয়াত ,আর এখন রোজ খোটা শুনতে হয়। এ জীবন আর ভাল লাগে না, রেলের নীচে ঝাঁপ দিলে কি হয়, একেবারে স্বপ্নের দেশে। রাত শেষ না হতেই মহররম রেল স্টেশনে এসে দাঁড়ায়। ট্রেন এলে এর নীচে শুয়ে পড়া যাবে। কিন্তু মহররম ট্রেনের নীচে না শুয়ে, চড়ে বসল কম্পার্টমেন্টে। অজানার পথে যাত্রা। বিশাল এক রেল স্টেশনে এসে নামল। তার মোট বয়েসী এক ছেলে বলল, এটার নাম কমলাপুর। বেড় হতেই একটা বড় বাস দেখে উঠে পড়ে। কিছু দুর পার হতে কন্ডাক্টর জিজ্ঞেস করে, `খোকা কি যাবা ', কিছু না বলে গাড়ী থামতে মহররম নেমে যায়। দূর থেকে...





