ছড়া ও কবিতা

[আমার লেখা প্রথম কবিতা - সময় ১৯৮১ সাল]

বরষা ভরসা, শস্য মাতাল হয়,
ঝড় আর ঝরা পাতা, সবই ঝরে যায়।
বিজলী বুঝি সে আকাশেতে উকি দেয়,
ধরণী ক্ষণিক শিহরি আকন্ঠ করে পান,
বুঝি তাই ধ্বনিত হল,
কাল বোশেখীর আগমন।

+++

যাপিত জীবন

 যন্ত্রনার বিন্দু গুলো জমা হয়ে,
যে বিশাল সাগর হয়,
সেখানে বিশ্বাস এর তরী হাবু ডুবু খায়।
আর আশার সুর্যটা ঢাকা পড়ে থাকে
মেঘের আড়ালে।


আটপৌরে ভালবাসা

আমার আকাশ জুড়ে
মেঘ ছিল
মেঘ ঢাকা
সূর্য ছিল,
আর নদীর মাঝে
কোকিল কালো
জল ছিল।
শুধু তোমার চোখে
কাজল ছিল।
তার মাঝে, মুগ্ধতা,
এলোমেলো।

স্বপ্নিল আকাশ জুড়ে
ভাল লাগা ছিল।
তারপরও সব
এলোমেলো।
পঞ্চমীর চাঁদ ছিল,
জ্যোতস্নার আলো
আর মৌনতা ছিল।
শুধু তোমার আচল
এলোমেলো।
কাজল কালো চোখে
ভালবাসা ছিল।
আমার হৃদয়
এলোমেলো।
অপেক্ষার প্রহর
দুর্বিষহ ছিল।
শুধু তোমার চোখে
জল ছিল।

পূর্ণিমা

চাঁদের টিকিট কেটেছি
পূর্ণিমায় যাব,
অমাবস্যায় ফিরে আসব।
সাথে যাবে ছলনা,
না করি কথা শোনে না।

হতাশাকে রেখে যেতা চাই,
তোমার কাছে, না কর না।


কোন এক বরষায়

হয়ত তার সাথে দেখা হবে,
তেত্রিশ বছর পর,
কোন এক কফি শপে,
পরন্ত বিকেলে।
আলতো করে চুল খানি সড়িয়ে,
তাকাবে, শুন্য সময় পর।

ধোয়া ওঠা কফি মগে,
উষ্ণতার ছোয়া, রক্তিম আভা ললাটের পর।
কোন এক বরষায়
জানালার কাচখানি,
ভেদ করে দৃষ্টি, দূঢ়ে বহু দুঢ়ে,
শুন্যে হারায়।
চোখে তার অপলক দৃষ্টি,
জানালার কাচখানি
ভিজে যাওয়া সময় টুকু,
আর ফিরে আসা
পথ খানি, অজানার কোন পথ
খুজে কি পায়।
রুপসার নীল জোছনা,
স্মৃতির খাতায়
বিবর্ণ মলাট খানি,
রঙের তুলিতে শুকিয়ে যাওয়া রঙ,
সুরের হাতছানি,
সেতারের গভীর কোন রাগ,
ফিরে ফিরে চায়,
কোন এক বরষায়।


দর্পন
--------
আমার প্রতিবিম্ব আজ
অপরিচিত মনে হয়,
দীর্ঘ চলার পথ, ভ্রম করে চলে আসা ভুল পথ,
পেছনে ফিরে দেখি,
স্মৃতিহীন অতীত।

দর্পন, তুমিও ভুল কর,
আমি আজ আমার কাছে অপরিচিত।
চেনা পথ অচেনা,
চেনা সূর হারিয়ে যায়,
রাত জেগে থাকি,
ভোরের অপেক্ষায়,
ভোর হয়,
আরেক অচেনা ভুবন।
দর্পন, আবারও ভুল।
স্মৃতিহীন গোলক ধাধা,
কত পথ, পাড়ি দিয়ে,
শুন্য পথে,
আজ এক ঝড়া পাতা।





কাজল কালো দীঘির জলে
পদ্ম পাতায় শিশির টলে
মাছরাঙা আর শঙ্খ চিলে,
যেথায় মুঠো শালুক মেলে,
আমার হৃদয়
নীল বেদনায়,
চুপটি করে
ডানা মেলে।

+++



ভাঙা তরী  [২৮-০৬-২০১৬]

সাগরের জল
গভীর অতল
পাড়ি দেই কিভাবে,
ভাঙা তরী মোর
হাতে নেই জোড়
কেদে ফিরি নীরবে।

কাল মেঘে হায়
আকাশ ঢেকে যায়,
ইতি উতি চাই
খুজিয়া হারাই,
আলোখানি মোর
নিভিয়া গিয়েছে,
ভাবিয়া না পাই
কপালে কি আছে।

এই রাতে কি
পাড়ি দেয়া যায়
ভূল পথে হায়
যদি তরী যায়।

রাতের আধার
টুুটিছে এবার
ভাঙা তরীতেই
হতে হবে পাড়।

+++

পৃথিবীটা হঠাত ছোট হয়ে আসছে,
একটা চাপ অনুভব করছি,
বাতাস ও কমে যাচ্ছে,
দম বন্ধ করা পরিবেশ।
সূর্যটা কি কিছুটা নেমে গেছে,
ভ্যাপসা গরম চারপাশ।

রাস্তায় মানুষের ভীড়,
দিক ভ্রান্তের মত ছুটছে,
ছুটছে আর ছুটছে,
কিছু মানুষ দেখতে পাচ্ছি,
হায়না হয়ে গেছে,
দাতগুলো বের করে হাসছে,
ধারাল নখ ঘষছে,
এই বুঝি বিঁধাবে।
হায় হায় নদীর পানি,
একি, যেন আলকাতরা
বয়ে যাচ্ছে।
আমি চোখ বন্ধ করে ফেলি,
আর না,
আর পারি না।

 +++












নীল আকাশটা
হেলে পড়ে আছে,
সাগরের কোলে,
দখিনের হাওয়া,
ঝাপ্টা দিয়ে বলে,
মিশে যেতে চাই,
নোনা এই জলে।


+++ 
















যখন দৃষ্টি
ঝাপসা হয়ে আসে,
হয়ত ফাগুনের ঘ্রান,
বাতাসে ভেসে আসে।
আমি বুঝতে না পারি,
কে বসে মোর পাশে।
শুধু শুকনো দুটি ডাল,
মোর চোখে ভাসে।


+++

একটি সুন্দর সকাল
-------------------

প্রতি দিন একটি সুন্দর সকালের অপেক্ষায় থাকি,
সোনালী সূর্য আর ভাল লাগার মাখামাখি,
পাখির কিচির মিচির
আর, শীতের শিশির
অনেক দূরে শান্ত কোন নদী,
পাল তোলা নৌকা, আর আকাশের ছবি।
*
মাঠ ভেসে যায়, আমনের ধানে,
কি হাসি খেলা করে কৃষকের প্রাণে,
প্রতি দিন ভাবি, নবান্নের ধানে,
পিঠা পার্বনে, আর
মিষ্টি হাওয়া, সোনালী সুর্য,
বয়ে চলা নদী,
আর,
ছোট নৌকায়,
নববধু যায়,
গলা ছেড়ে হায়,
মাঝি গান গায়।

আমার এই প্রাণ,
ছুটে যেতে চায়।

+++

[নষ্টালজিয়া]
সময় আর নদীর স্রোত থেমে থাকে না,
বয়স ও ধরে রাখা যায় না।
প্রকৃতি বদলে যায়,
আর আমরা হাতরে ফিরি,
সীমাহীন কল্পনায়।

কতকাল আগে, কীর্তনখোলা নদীর পারে
দাড়িয়ে দেখেছি, পাল তোলা নৌকা আর
ডানপিটে শিশুদের ঝাপা ঝাপি,
দেখেছি, আকাশ চিরে উড়ে যাওয়া,
বকেদের সাড়ি।
পাশের বাড়ীর বড়ই গাছে আর ঢিল ছোড়া হয় না,
হয় না, জিলা স্কুলের মাঠে, ঘুড়ির পেছনে ছোটা।
বিবির পুস্করনী কি, আগের মত আছে?
অথবা, বেলস পার্ক
বহুদিন পর মন চায় ফিরে যাই,
কৈশরে, যেখানে স্মৃতির প্রজাপতি,
উড়ে যায়,
তেপান্তরের সীমানায়।

+++

জোছনা ও জোনাকী
-------------------
জোছনায় ভিজে আছে,
মাধবী লতা, তারি মাঝে জোনাক জ্বলে,
দূরে কোন কৃষান, মধুর সুরে বাজায় বাঁশী,
তারার মিতালী,
দূর বহুদূর,
অনন্ত রজনী,
জেগে থাকা, স্বপ্নীল তিথী,
আর, হাসনা হেনার গন্ধ,
মন মাতনো, মধুকরী,
জোছনা ভেজা জোনাক জ্বলে
কোন এক অনন্ত রজনী।


+++

দক্ষিণের কোনে
বসে নির্জনে,
ভাবি সারাবেলা।
আমাতে কি পাই,
খুজিয়া হারাই,
ফেলে আসা ছেলেবেলা।


+++ 

আমি যা বলি
তা করি না
যা করি
তা বলিনা
আমি লীগ
না দল
তা নিয়ে কৌতূহল।
আমি জালাই
জলি না।
আমি কাঁদাই
কাদি না।
আমি ভাই
ভোট চাই।

আমি নেতা।

+++

বাদল দিনে 

রজনীগন্ধা সুবাস ছড়িয়ে
ক্লান্ত আবেশে ঘুমিয়ে পড়ে।
মেঘলা আকাশ
রাতভর জেগে থাকে।
সকাল বেলা দু'ফোটা জল,
গায়ে পড়তেই,
রজনী গন্ধা আড়মোড়া ভেঙে দেখে,
মেঘে ঢাকা আকাশ তাকিয়ে আছে।
তুমি ঘুমাও নি?
মেঘলা আকাশ বলে
বাদল দিনে,
তোমায় ডাকবো বলে,
রাতভর জেগে আছি।

চন্দ্রমল্লিকা

শীতের চাদরে ঢাকা,
কেওক্রাডং পাড়ি দিয়ে,
তোমায় খুজেছি,
পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে।
শংখ নদীর হিমেল জল,
আর সেই বয়ে চলা নদী,
আমাকে নিয়ে গেছে,
যেখানে পাথররাজি,
যুগ যুগ ধরে অপেক্ষায় আছে।
চন্দ্রমল্লিকা
তোমায় খুজেছি
আমাবশ্যায়, গহীন বনে।
সন্ধ্যা তারা
আর জোছনা নাই বলে,
থেমে থাকিনি।
পেছনের পথ কতটুকু
ফেলে এসেছি,
গুনে দেখিনি।
ভোরের আজান শুনে,
ঘুম থেকে জেগে দেখি,
চন্দ্রমল্লিকা,
তুমি তাকিয়ে আছো,
সুর্যের আভা তোমাকে
আরো রূপবতী করেছে।



নিদ্রা বিলাসী মন
তোমার উষ্ণ আবেশ
এই শীতের সকালে,
কি যে ভাল লাগে,
বোঝে না
কেউ বোঝে না।
নকশী কাঁথাটা
গায়ে জড়িয়ে থাকে।
এই নিষ্ঠুর পৃথিবী
আমার সব ভাল লাগাকে
তুচ্ছ করে,
আমি ছুটে যাই
রোজকার মত
আহারের সন্ধানে।
আমার নিদ্রা বিলাসী মন
পরে থাকে।

Comments

Popular Posts